পুরনো পণ্য কেনার অনলাইন প্ল্যাটফরম সোয়্যাপ । এটির বিশেষত্ব হলো, কোনো তৃতীয় পক্ষ নয়, সোয়্যাপ কর্তৃপক্ষই কিনে নেবে বিক্রেতার পণ্যটি। এই প্ল্যাটফরমে গ্রাহক সোয়্যাপ অ্যাপ অথবা ওয়েবসাইট ব্যবহার করে দেশের যেকোনো প্রান্তে বসে তাঁর পুরনো পণ্য বিক্রয় করতে পারবেন।
হাতে থাকা ফোনটি পুরনো হয়ে গেছে? নতুন ফোন কেনার কথা ভাবছেন? চাচ্ছেন পুরনো ফোনটি সহজে বিক্রি করে ফেলতে পারলে নতুন ফোন কেনার ক্ষেত্রে আর্থিকভাবে কিছুটা সুবিধাপ্রাপ্ত হবেন! অথবা বাসায় পড়ে থাকা অপ্রয়োজনীয় কোনো ফার্নিচার বিক্রি করে দিতে চাচ্ছেন—এমন চাহিদার কথা ভেবেই দেশে রি-কমার্স প্রতিষ্ঠান সোয়্যাপের যাত্রা। সোয়্যাপে একদিকে যেমন ব্যবহৃত পণ্য বিক্রয় করা যায়, আবার সেখান থেকে কেউ চাইলে পুরনো পণ্য কিনতেও পারেন। এর বাইরে এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে নতুন পণ্য পাওয়ার সুযোগও রয়েছে।
সোয়্যাপের সার্ভিস ব্যবহার করতে তাদের ওয়েবসাইট কিংবা মোবাইল অ্যাপে যেতে হবে। সোয়্যাপে কেনা ও বেচার আলাদা দুটি ক্যাটাগরি রয়েছে। স্মার্টফোন, ট্যাব, ল্যাপটপ, ইলেকট্রিক অ্যাপ্লায়েন্স (টিভি, এসি, ফ্রিজ ইত্যাদি), মোটরসাইকেল, কার ইত্যাদি বেচা ও কেনার সুযোগ রয়েছে। এই ক্যাটাগরিগুলোর মধ্যে থাকা যেকোনো একটি পণ্য আপনি বিক্রি করতে চাইলে ‘সেল’ অপশন দেখে কাঙ্ক্ষিত ক্যাটাগরিতে যেতে হবে। ধরুন, আপনি একটি শাওমি ব্র্যান্ডের নোট ৭ মডেলের স্মার্টফোন বিক্রি করতে চাচ্ছেন।
তাহলে আপনাকে Sell Smartphone ক্যাটাগরিতে গিয়ে ব্র্যান্ড হিসেবে শাওমি সিলেক্ট করতে হবে। তারপর সেখানে মডেলের তালিকা থেকে নিজস্ব মডেলটি নির্বাচন করতে হবে। এরপর ফোনের কন্ডিশনবিষয়ক নানা তথ্য প্রদান করলে যেগুলোর ওপর ভিত্তি করে একটি মূল্য নির্ধারিত হবে। সোয়্যাপ নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রয়ে রাজি থাকলে নিজের ব্যক্তিগত তথ্য দিয়ে সাবমিট করলে পরবর্তী ঘণ্টার মধ্যে সোয়্যাপ থেকে যোগাযোগ করে পণ্যটি নিয়ে যাবে। আর মূল্য ক্যাশ, ব্যাংক কিংবা মোবাইল ব্যাংকিং যেকোনোভাবে পাওয়া যাবে। এ ছাড়া তাদের নির্ধারিত এজেন্ট পয়েন্টে গিয়েও সরাসরি এই পণ্য বিক্রির কাজটি করা যাবে।
পুরনোতেও মিলবে নতুনের মতো ওয়ারেন্টি সুবিধা
সোয়্যাপ থেকে পুরনো কোনো পণ্য কিনতে চাইলে তাদের অ্যাপ বা ওয়েবসাইটিতে থাকা Buy ক্যাটাগরি থেকে কাঙ্ক্ষিত পণ্যের ক্যাটাগরিতে গেলে মূল্যসহ তালিকা পাওয়া যাবে। এ ছাড়া সার্চ করে প্রয়োজনীয় পণ্য খুঁজে পাওয়া যাবে। সেখান থেকে সহজেই কিনে ফেলা যাবে কাঙ্ক্ষিত পণ্য। তাদের বিক্রি করার তালিকায় থাকা পুরনো পণ্যের মধ্যে কিছু পণ্য Swap Certified ক্যাটাগরির, যেগুলোতে শর্ত সাপেক্ষে ওয়ারেন্টি সুবিধাও দিয়ে থাকে।
সেবা মিলবে অনলাইন-অফলাইন দুভাবেই
অনলাইনের পাশাপাশি তাদের অফলাইন স্টোর থেকে দেখেশুনে পছন্দ করে পুরনো এসব পণ্য ক্রয় করা যায়।
বর্তমানে দেশব্যাপী তাদের ৫০টির বেশি রিটেইল পয়েন্ট ও ৩০০-এর অধিক এজেন্ট রয়েছে। এ ব্যাপারে সোয়্যাপের প্রধান নির্বাহী পারভেজ সাজ্জাদ জানান, অমনিচ্যানেল (omnichannel) ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠান হিসেবে তারা অনলাইন-অফলাইন দুই মাধ্যমেই সমান জোর দিয়ে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করে। যেহেতু বাংলাদেশে ব্যবসার বেশির ভাগই অফলাইনে, অর্থাৎ রিটেইল চ্যানেলে হয়ে থাকে, তাই তারা তাদের রিটেইল ও এজেন্ট পয়েন্টগুলো কাজে লাগায়। দেশব্যাপী এসব রিটেইল ও এজেন্ট পয়েন্ট তাঁদের হয়ে পণ্য কেনাবেচার কাজ করে। এর পাশাপাশি স্যামসাং, অপ্পো, ভিভো, শাওমি, ওয়ানপ্লাস, অয়াপল, বাজাজ, টিভিএস, হোন্ডা, লিফানের মতো বড় মোবাইল ও মোটরসাইকেল কম্পানিগুলোর সঙ্গে তাদের নানা ধরনের ব্যাবসায়িক চুক্তি থাকার দরুন অফলাইনে তাদের ব্যাবসায়িক কলেবর বাড়াতে সহায়ক হয়েছে, এমনটাই জানান মি. পারভেজ।
বড় ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে ব্যাবসায়িক সম্পর্ক থাকার কারণে পুরনো পণ্য বদলে নতুন পণ্য কেনার মতো অফার দিতে পারছে তারা। এ ছাড়া দেশব্যাপী ছড়িয়ে থাকা ব্র্যান্ডগুলোর রিটেইল চ্যানেলভিত্তিক নানা কার্যক্রমও চালাতে পারছে।
